লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাট এলাকার রবিউল ইসলাম ও তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে মাদক ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই দুই ব্যক্তি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সীমান্তজুড়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বেনামী ও দৃশ্যমান সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগের বিবরণ ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক:
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকাকে ব্যবহার করে ভারতীয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তারা হুন্ডির টাকা পাচার করে আসছিলেন। পরবর্তীতে সেই হুন্ডির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশে বড় বড় চালানের মাদক সরবরাহ করা হয়। এই চক্রের নিয়ে আসা মাদক পরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, রবিউল ইসলাম ও আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে একাধিক মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলাও রয়েছে। খুব অল্প সময়ে জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া এবং বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এই সম্পদের মূল উৎস দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযুক্ত ও পুলিশের বক্তব্য:
অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে দুটি মাদকের মামলা হয়েছে, তবে সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তবে মাদক মামলা থাকার কথা স্বীকার করলেও অল্প সময়ে গড়ে তোলা অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঠোফোনে জানান, “এলাকায় আমাদের মাদকবিরোধী চিরুনি অভিযান নিয়মিত চলমান রয়েছে। কেউ যদি মাদকের অবৈধ কারবার কিংবা হুন্ডির কালো টাকা দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে থাকেন, তবে আইন অনুযায়ী সেই সম্পদের উৎস অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিললে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চাপারহাটের সাধারণ মানুষের দাবি, এই চক্রের খুঁটির জোর কোথায় তা খুঁজে বের করতে একটি সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক এবং সীমান্ত অপরাধ বন্ধে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।