নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় নদী থেকে এক অজ্ঞাত নবজাতক কন্যা শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতদেহটি যেন পানির নিচে তলিয়ে থাকে, সেই উদ্দেশ্যে শিশুটিকে একটি কালো শার্টে মুড়িয়ে এবং লাল রশি দিয়ে ভারী ইটের সাথে বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আজ সোমবার (২৯ জুন) আনুমানিক সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা গ্রাম সংলগ্ন কালিহর নদী থেকে এই ভাসমান লাশটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশি তৎপরতা:
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার সকাল আনুমানিক ৮ টার দিকে কালিহরকান্দা গ্রামের পাশে কালিহর নদীতে একটি কাপড়ে মোড়ানো বস্তু ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাছে গিয়ে সেটি একটি নবজাতকের লাশ নিশ্চিত হয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পূর্বধলা থানায় খবর দেন।
খবর পাওয়া মাত্রই পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. habitur রহমান (পিপিএম) এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নদী থেকে অজ্ঞাত ওই কন্যা শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া:
পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, নবজাতকের পুরো শরীর একটি কালো শার্ট দিয়ে প্যাঁচানো ছিল এবং কোমর ও পিঠের অংশ লাল রঙের রশি দিয়ে একটি ইটের সাথে শক্ত করে বাঁধা ছিল। অপরাধ আড়াল করার অসৎ উদ্দেশ্যেই কোনো চক্র রাতের আঁধারে এই অমানবিক কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আজ সকাল আনুমানিক ৮ টার দিকে নদী থেকে নবজাতকের মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটির সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। এই অমানবিক ও নৃশংস ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং নবজাতকের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে।”