সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা দেখলেই অভিযান, জব্দ কিংবা উচ্ছেদ—কিন্তু মূল প্রশ্নটি থেকে যাচ্ছে, এসব অননুমোদিত যানবাহন কীভাবে প্রকাশ্যে বাজারে আসছে? বছরের পর বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শোরুম, গ্যারেজ ও অবৈধ চার্জিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। সেখান থেকে নির্বিঘ্নে নতুন রিকশা বিক্রি ও যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হলেও সড়কে নামামাত্রই চালকদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রশাসনের।
সম্প্রতি ঢাকা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়কে রিকশা জব্দের অভিযান চললেও বিক্রির উৎস বা শোরুমগুলো বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি। ক্ষুদ্র রিকশাচালককে জরিমানা করা সহজ হলেও মূল ব্যবসায়ী, সরবরাহ ব্যবস্থা, ট্রেড লাইসেন্স ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।
২০২৬ সালের সংশোধিত আইনি কাঠামোয় লাইসেন্স, অনুমোদন ও নির্দিষ্ট এলাকা সংক্রান্ত একাধিক দিক অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বাস্তবায়নে রয়ে গেছে প্রশ্ন। কেবল চালকদের ধরপাকড় না করে উৎপাদন, বিক্রি ও গ্যারেজ বন্ধে উৎসে আঘাত হানাই এখন সময়ের দাবি। একই সাথে যদি এ যান চলাচলের সুযোগ থাকে, তবে স্পষ্ট নীতিমালা ও নিবন্ধনের মাধ্যমে পরিচালনা করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রশাসনের কাছে সাধারণ মানুষের সরল প্রশ্ন—যদি সড়কে চলাচল অবৈধ হয়, তবে শোরুমে বিক্রি কীভাবে বৈধ? এই দ্বৈত নীতির অবসান না হলে আইনের প্রয়োগ নিয়ে জনগণের সংশয় থেকে যাবে।