বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং তুর্কি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (Special Economic Zone) প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
এর আগে বাংলাদেশে তিন দিনের সরকারি সফরে আসা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাথে দ্বিপক্ষীয় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের আকর্ষণীয় প্রণোদনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছি। পাশাপাশি সম্ভাব্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা বিশেষ করে বাংলাদেশে একটি নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তুরস্ককে প্রস্তাব দিয়েছি এবং শিল্প অংশীদারিত্বে সহযোগিতার অনুরোধ করেছি।”
বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই দেশের বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। তবে এই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্রুত ১.৩ বিলিয়ন থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তুরস্কের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।”
জাতিসংঘের নির্বাচনে পাশে থাকায় কৃতজ্ঞতা:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি অমূল্য ও জোরালো সমর্থন দেওয়ায় তুরস্ক সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
হাকান ফিদানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “জাতিসংঘের নির্বাচনের ঠিক পরেই গতকাল আমি দেশে ফিরেছি এবং বাংলাদেশে আপনাকে অভ্যর্থনা জানানোর সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আপনার কাছ থেকে যে সমর্থন ও সহযোগিতা আমি পেয়েছি, তা কখনও ভোলার নয়।” তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই সফর দুই দেশের পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আলোচনা:
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ ভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। এই মানবিক সংকট সমাধানে এবং আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টি করতে তুরস্কের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে তিন দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।