বাগেরহাটের প্রত্যন্ত কররী গ্রামে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব বিলাসবহুল কাঠের ঘর। আর এসব ঘর রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামে। বাগেরহাট বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত ‘ন্যাচারাল ফাইবার এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা মোস্তাফিজ আহমেদ।
২০০৫ সালে নারকেলের ছোবড়া দিয়ে পণ্য তৈরির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশবান্ধব কাঠের পণ্য উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
উল্টানো নৌকার মতো দেখতে এসব ঘরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বোট টাইনি হাউস’। ঘরের কাঠামো, দেয়াল, দরজা-জানালা, ছাদ থেকে শুরু করে ভেতরের খাট, চেয়ার ও টেবিল পর্যন্ত সবকিছুই তৈরি হচ্ছে দেশি মেহগনি কাঠ দিয়ে। ক্রেতার শর্ত অনুযায়ী ঘরগুলোর প্রতিটি উপাদান হতে হবে পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল।
প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১১ মিটার এবং প্রস্থ ৪ দশমিক ২৫ মিটার। সহজে পরিবহনের জন্য ঘরগুলোকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে প্যাকেটজাত করা হয়। পরে বেলজিয়ামে নিয়ে সেগুলো সংযোজন করা হবে।
বেলজিয়ামের বিখ্যাত ইকো-পার্ক ‘পাইরি ডাইজা’ এসব ঘরের ক্রেতা। পর্যটকদের আবাসনের জন্য সেখানে কটেজ হিসেবে ব্যবহার করা হবে এগুলো। প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি ১২০টি ঘর তৈরির অর্ডার পেয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এসব ঘর সরবরাহ করতে হবে।
ব্রিটেন ও ভিয়েতনামের মতো দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানটি এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে। বর্তমানে কারখানায় প্রায় ২০০ শ্রমিক দিনরাত কাজ করছেন। একটি ঘর তৈরি করতে সময় লাগছে প্রায় এক সপ্তাহ। প্রতিটি ঘরের মূল্য ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা।
তবে সম্ভাবনাময় এই রপ্তানি উদ্যোগে রয়েছে কিছু প্রতিবন্ধকতাও। কারখানা থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে মোংলা সমুদ্রবন্দর থাকলেও পণ্য রপ্তানির জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম বন্দর। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করতে মোংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
বিসিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের উদ্ভাবনী ও পরিবেশবান্ধব পণ্য রপ্তানি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। এ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার ব্যাপারেও তাঁরা আগ্রহী।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাগেরহাটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তৈরি এই কাঠের ঘর শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সম্ভাবনাই তৈরি করছে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব পণ্যের পরিচিতি বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।