২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সামগ্রিক ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। উপজেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৭৮১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৬৫৮ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ৯৫ শতাংশে। এছাড়া ফেল করেছে ১ হাজার ১২৩ জন এবং পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৭৪ জন শিক্ষার্থী।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এই তথ্য জানা যায়।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলায় মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলার বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং জিনোদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭ জন এবং জিনোদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটিতে পাসের হার শূন্য শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়—বিটঘর দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য বিদ্যাপীঠে পাসের হার তুলনামূলক ভালো হলেও নবীনগর সরকারি কলেজে ৪৪৭ জনের মধ্যে ১৮৩ জন, লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহম্মদ কলেজে ৩৮৫ জনের মধ্যে ১৫৪ জন, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ কলেজে ১৭৫ জনের মধ্যে ৬৬ জন, নবীনগর মহিলা কলেজে ১৭৮ জনের মধ্যে ৫৪ জন, শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১২৮ জনের মধ্যে ৩৯ জন, সালীমগঞ্জ কলেজে ৩১৬ জনের মধ্যে ৭৩ জন, আলিমুদ্দিন জোবেদা কলেজে ৮৬ জনের মধ্যে ২১ জন এবং রাবেয়া মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন পাস করেছে।
কুমিল্লা বোর্ডে যেখানে গড় পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, সেখানে নবীনগরের এই বিপর্যয় শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ঘাটতিকে উন্মোচিত করেছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।