ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য পুড়িয়ে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহুল আলোচিত প্রকল্পটি পুনরায় বাস্তবায়নের আলোচনায় এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে একে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট নিরসন ও পরিচ্ছন্ন নগর গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও পরিবেশবিদ ও বর্জ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন।
চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘China Machinery Engineering Corporation’ (CMEC)-এর সঙ্গে ২০২১ সালে প্রকল্পটির বিভিন্ন মূল চুক্তি সম্পন্ন হয়, যা ২০২৮ সালের নভেম্বরের মধ্যে চালুর লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এতে দৈনিক ৩ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহারের কথা থাকলেও গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের বর্জ্যে জৈব উপাদান ও আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি হওয়ায় বর্জ্য পৃথকীকরণ (Waste Segregation) ছাড়া সরাসরি মিশ্র বর্জ্য পুড়িয়ে প্রত্যাশিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কঠিন হতে পারে।
এ ছাড়া বর্জ্য পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন বিষাক্ত গ্যাস, ডাইঅক্সিন, ভারী ধাতু ও Fly Ash-এর টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিবেশগত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি ২০২১ সালের চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৮ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করায় দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়ের বিষয়টিকেও তারা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রযুক্তি সরাসরি ভালো বা খারাপ নয়; মূল বিষয় হলো দেশের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে এটি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকল্পটি সফল করতে বর্জ্য পৃথকীকরণ নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মানের Emission Monitoring System স্থাপন, আর্থিক চুক্তির স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং স্বাধীন তদারকি জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।