তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশে যখনই আলোচনা শুরু হয়, তখনই কোনো না কোনোভাবে চীনের নাম সামনে চলে আসে। কেউ বলেন—চীন তিস্তা প্রকল্প করবে, কেউ বলেন—চীন এলে ভারত অসন্তুষ্ট হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিস্তার উৎপত্তি ভারতের সিকিমে এবং এর উজান সম্পূর্ণ ভারতের নিয়ন্ত্রণে। নদীটি ভারতের ভূখণ্ড অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং উত্তরাঞ্চলের মরুকরণের প্রশ্নের আসল জবাবদিহি কার কাছে—চীনের নাকি ভারতের? উত্তর ভূগোলই দিয়ে দেয়।
চীন তিস্তার উজানে কোনো বাঁধ দেয়নি কিংবা পানি প্রত্যাহার করেনি। তিস্তা নদীর ভেতরে খনন, তীর সংরক্ষণ কিংবা বন্যা নিয়ন্ত্রণে চীন প্রযুক্তি ও অর্থায়ন দিতে পারে; কিন্তু কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করলেও উজান থেকে এক ফোঁটা পানি ছাড়ার ক্ষমতা বেইজিংয়ের নেই। অর্থাৎ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পানি-বণ্টন দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তিস্তার পানি-বণ্টন নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা হলেও উত্তরাঞ্চলের কৃষক আজও তাদের ন্যায্য পানি পাচ্ছেন না। চীন যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নদী খননে সহায়তা করে, তবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। কিন্তু উন্নয়ন সহযোগিতাকে পানি-বণ্টনের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিস্তা নিয়ে মূল নীতি হওয়া উচিত স্পষ্ট—অভ্যন্তরে নদী পুনরুদ্ধারে যে কোনো দেশের সহযোগিতা গ্রহণ করা এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে উজানের পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য ভারতের সঙ্গে শক্ত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া। প্রকল্প নিয়ে কালক্ষেপণ না করে তিস্তার পানির স্থায়ী ফয়সালা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।