মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার ‘সিন্ডিকেট’ বিতর্ক ও অর্থপাচারের অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন প্রতিষ্ঠান Bestinet-এর প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশীয় নাগরিক আমিনুল ইসলাম আবদুল নূর (আমিন নূর) এবং তাঁর বাংলাদেশি সহযোগী মোহাম্মদ রুহুল আমিন ওরফে স্বপন।
বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের নির্ধারিত সর্বোচ্চ ফি ৭৮,৯৯০ টাকা হলেও একেকজন কর্মীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে গড়ে প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, কর্মীপ্রতি প্রায় ১ লাখ টাকা ‘সিন্ডিকেট ফি’ বাবদ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং ভিসা বাণিজ্যের নামে আরও ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকাসহ মোট সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি পাচার করা হয়েছে।
এ ঘটনার তদন্তের স্বার্থে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আমিন নূর ও রুহুল আমিনকে আটক ও দেশে ফেরানোর (প্রত্যর্পণ) জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। দুই দেশের পুলিশ বর্তমানে বিষয়টি সমন্বয় করছে।
তবে সমস্ত অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Bestinet কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, FWCMS ডিজিটাল সিস্টেমে নিবন্ধনের জন্য সরকারি অনুমোদিত ১০০ রিঙ্গিত ফি ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি কোনো অতিরিক্ত বা অবৈধ ‘সিন্ডিকেট ফি’ নেয় না। এছাড়া আমিন নূর ২০২৩ সালের জুলাই মাসেই চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি দৈনন্দিন কার্যক্রমের সাথে যুক্ত নন। মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনও (MACC) পূর্ববর্তী এক তদন্তে কোনো অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক ও আদালত পর্যন্ত গড়ালেও ২০২৬ সালেও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন করে পুরোনো সিন্ডিকেট ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ প্রবাশীদের অতিরিক্ত অর্থের বোঝা কমানো এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন ব্যবস্থা স্বচ্ছ করার দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।