পদায়নের মাত্র দেড় মাসের মাথায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. হুমায়ূন কবীরকে (জুয়েল) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
গত রবিবার (৯ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে ওএসডি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে আগামী ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁকে ঢাকায় নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ওই দিন বিকেলে তিনি ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ বা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন।
ইংরেজি বিভাগের এই অধ্যাপককে সম্প্রতি গত ২৫ জুন মাউশির রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। সংক্ষিপ্ত মেয়াদে হঠাৎ এমন বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রফেসর মো. হুমায়ূন কবীর বলেন, “এর কারণ আমার জানা নেই। এটি প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে। কারও পছন্দ না হলে বদলি করতেই পারেন।”
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত প্রফেসর হুমায়ূন কবীরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। ২০১০ সালে তাঁর বিরুদ্ধে মারাত্মক নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীকালে ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান এবং বিচারে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
সাজা ঘোষণার পর ছয় মাসেরও বেশি সময় কারাবাসের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ সময় চাকরি থেকে বরখাস্ত ছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি চাকরি ফিরে পান এবং ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। বিগত সরকারের সময় জুড়ে নানা ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।