চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে। একই সাথে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১৪৫ জন কমে হয়েছে ৯ হাজার ৬৯৮ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম জেলা এবং চার পার্বত্য জেলা (কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।
পাহাড়ে বড় দরপতন ও খাগড়াছড়িতে সর্বনিম্ন পাসের হার:
চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৭৪ শতাংশ হলেও মহানগরের বাইরে জেলা পর্যায়ে পাসের হার নেমে এসেছে ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশে। তবে সবচেয়ে করুণ অবস্থা পার্বত্য জেলাগুলোতে। খাগড়াছড়িতে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার ২৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশে। এছাড়া রাঙামাটিতে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং কক্সবাজারে ৫৭ দশমিক ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
মানবিকে বিপর্যয়, কমেছে শতভাগ পাস করা স্কুল:
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে বিজ্ঞানে পাসের হার ৮৪.৪১ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৬০.১২ শতাংশ হলেও মানবিকে পাসের হার চরম নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৮.৭৯ শতাংশে। শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৩টি থেকে কমে ২১টিতে নেমেছে। বিপরীতে শূন্য পাস করা (কেউ পাস করেনি) প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের ১টি থেকে বেড়ে এবার ৮টিতে পৌঁছেছে।
লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলেও এবার এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। ছাত্রীদের পাসের হার ৬০.০৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৫৮.৭৬ শতাংশ।
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হয়ে ২০ মে লিখিত পরীক্ষা শেষ হলেও নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ১০ আগস্ট এই ফলাফল প্রকাশ করা হলো। পার্বত্য অঞ্চলের চরম ধস ও শূন্য পাসের স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।