খুলনা নগরীর প্রবেশদ্বার খ্যাত সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে গাজী মেডিকেল পর্যন্ত সড়ক এখন নগরবাসীর চরম দুর্ভোগের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দূরপাল্লার ও লোকাল বাসগুলো নির্ধারিত নিয়ম ভেঙে বাসস্ট্যান্ডের ভেতরে না ঢুকে গাজী মেডিকেলের সামনের মাত্র ১০ ফুট চওড়া সরু গলির মুখ দিয়ে ইউ-টার্ন নেওয়ায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে আসা বড় বড় বাসগুলো নিয়ম উপেক্ষা করে সরাসরি গাজী মেডিকেল মোড়ে এসে প্রতিযোগিতা ও ওভারটেকিং শুরু করে। এরপর সরু গলি দিয়ে বিশালাকার এসব বাস ঘোরানোর সময় পুরো সড়কে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এতে অটো, রিকশা, সিএনজি, প্রাইভেট কারসহ জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
প্রতিদিন এ রুটে চলাচলকারী রিকশাচালক রফিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এখানে জ্যাম লাইগ্যা থাকে। বাসগুলো যদি স্ট্যান্ডের ভেতর দিয়ে ঘুরতো তাইলে এই অবস্থা হইতো না। ছোট গলি দিয়ে বড় গাড়ি ঘোরাইতেই আধঘণ্টা লাইগ্যা যায়।”
গাজী হাসপাতালে জরুরি রোগী নিয়ে আসা এক স্বজন জানান, ১৫ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করতে তাঁদের সময় লেগেছে ১ ঘণ্টারও বেশি।
ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার প্রধান ৩ কারণ:
এ বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মন্তব্য করেন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিদিন এমন বিশৃঙ্খলা বজায় থাকলে খুলনাকে কোনোভাবেই পরিকল্পিত নগরী বলা যায় না। অবিলম্বে কেএমপি (KMP) ট্রাফিক বিভাগ ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ নগরবাসী। বাসগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে স্ট্যান্ডের ভেতরে ঘোরানো এবং গাজী মেডিকেল মোড়ে স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।