বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংসদে আলোচনা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান হওয়া উচিত। রাস্তায় নেমে অহেতুক চাপ সৃষ্টি বা ‘মব’ তৈরির যে সংস্কৃতি, তা দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।
আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন একটি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সেটিকে ব্যর্থ আখ্যা দেওয়া বা ক্ষমতা ছাড়ার দাবি তোলা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ভিন্নমতকে সম্মান করা। নিজের সঙ্গে মতের মিল না থাকলেও অন্যের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়লে দেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, টেকসই গণতন্ত্রের জন্য শুধু নির্বাচন বা সরকার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীলতা এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। গণতন্ত্র এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ইচ্ছা ও মতামতের ভিত্তিতে নিয়ম মেনে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি চাপ না থাকলেও অনেক সংবাদকর্মী নিজেরাই ‘আত্মনিয়ন্ত্রণ’ বা ‘আত্মসংযমের’ পথে হাঁটেন। সাংবাদিকদের এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সত্য প্রকাশের সাহস দেখানোর উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে তিনি নিরপেক্ষভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন।