জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় অর্জন ও শক্তি ছিল দেশের আপামর জনতার মধ্যকার অভূতপূর্ব ভ্রাতৃত্ববোধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তখন স্কুল-কলেজের তরুণরা রাজপথে নেমে এসেছে, আর শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরতে দেখে রিকশাচালক, দিনমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের এই সংহতিকে স্মরণ করে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন কাজী সাইমুম সিরাজ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সংহতির নজির সত্যিই বিরল। এই ভ্রাতৃত্বই জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত শক্তি। তাই জুলাইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তরুণদের একটি সুন্দর ও অনিশ্চয়তাহীন ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তারা যেন ভালোভাবে পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জন এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, সেদিকে সকলের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
কাজী সাইমুম সিরাজ উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক অনাচার, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট এবং অশালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির শক্তিশালী মোকাবিলা করতে হলে এই ভ্রাতৃত্ববোধকে একটি স্থায়ী সামাজিক শক্তিতে পরিণত করতে হবে।
দেশে-বিদেশে অবস্থানরত সকলকে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের উচ্চশিক্ষা, টিউশন, পার্ট-টাইম চাকরি, আইইএলটিএস-জিআরই কিংবা স্যাটের প্রস্তুতিতে সাহায্য করা এবং নতুন স্টার্টআপ বা উদ্যোক্তা হতে পারস্পরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া দরকার।
তিনি সতর্ক করে বলেন, তারুণ্যের এই বিদ্রোহ, মানবিকতা ও সংহতিকে যেন কোনো সংকীর্ণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা পচে যাওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে হারিয়ে যেতে দেওয়া না হয়। বরং এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন মানুষ, নতুন সমাজ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি তৈরি করতে হবে। যুদ্ধ শেষে দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি শহীদ ও গুরুতর আহত হয়েছেন সাধারণ জনগণ।
“জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা—আমরা একে অপরের জন্য। আর সেই ভ্রাতৃত্বই হোক আগামীর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি,”—বলেন তিনি।