প্রতি বছর জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক, জেলে ও সাধারণ বনজীবীদের প্রবেশ বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের প্রকৃতি যেন ফিরে পেয়েছে তার নিজস্ব রূপ। মানুষের কোলাহল ও নৌযানের বিকট শব্দ না থাকায় নিস্তব্ধ বনে বেড়েছে বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর অবাধ ও নিরুপদ্রব বিচরণ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের নিরাপদ প্রজনন সুরক্ষায় প্রতি বছরের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের পাস-পারমিট প্রদান বন্ধ থাকে। মানব হস্তক্ষেপহীন এই সময়ে হরিণ ও বাঘ অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারছে এবং নদী-খালে মাছেরা নিরাপদে ডিম ছাড়ছে।
প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার সুফল মিলতে শুরু করেছে হাতে-নাতে। বিগত জুলাই মাসেই সুন্দরবনের অন্তত পাঁচটি আলাদা এলাকায় ৮টি বাঘের দেখা পেয়েছেন বনকর্মীরা। ১৫ জুলাই বিকেলে সুন্দরবন রেঞ্জে একসঙ্গে তিনটি বাঘকে সাঁতরে নদী পার হতে দেখেন টহলরত বনরক্ষীরা। এছাড়া ২৪ জুলাই আন্ধারমানিক বন কার্যালয়ে এবং ২৬ জুলাই কচিখালী অভয়ারণ্য এলাকায় সাঁতার কেটে নদী পার হতে দেখা যায় বাঘকে, যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।
বন বিভাগের ২০২৪ সালের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘ রয়েছে ১২৫টি এবং ২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী হরিণ রয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বনে পাহারা জোরদার ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ফুট ট্রেইলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ শিকারির ফাঁদ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। শিকারমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ পেয়ে হরিণ ও বাঘ উভয়েরই বিচরণ বেড়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ বলেন, “দীর্ঘদিন বনের ওপর মানুষের চাপ বন্ধ থাকায় বাহ্যিক ও ইতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। বনকে এভাবে নির্দিষ্ট সময় পর পর ‘রেস্ট’ বা বিশ্রাম দেওয়া বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।”