সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভার সদর এলাকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী রূপ নিয়েছে ভয়াবহ যানজট। নিত্যদিনের এ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ। তবে যানজট নিরসনে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্যামনগর পৌর সদরের চৌরাস্তা মোড় থেকে উপজেলা পশু হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কজুড়ে ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান, মোটরভ্যান, মোটরসাইকেল এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত সরকারি-বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সসহ নানা ধরনের যানবাহন অবাধে চলাচল ও পার্কিং করায় দিনভর স্থবিরতা লেগে থাকছে। এতে করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক হাঁটার পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক ঘেঁষেই রয়েছে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পশু হাসপাতাল, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, একটি কিন্ডারগার্টেন, ছয়টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল এবং জেলা পরিষদের প্রায় ৬৪টি দোকান। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ বহুগুণ বাড়লেও সড়কটি সরু হওয়ায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুস সামাদ ও আবুল কাসেমসহ এলাকার স্থানীয় সচেতন মহল জানান, মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলো প্রায়শই এই সড়কে আটকে থাকছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের স্কুল যাতায়াতও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়কের দুই পাশের ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ দোকানের সামনে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মালামাল সাজিয়ে রাখার ফলেও চলাচলের রাস্তা ছোট হয়ে গেছে। ফলে প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন অনিয়ন্ত্রিত রূপ নিচ্ছে।
যানজটের ভোগান্তির সত্যতা স্বীকার করে শ্যামনগর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশেদ হোসাইন জানান, “সদর এলাকার যানজটের বিষয়টি সত্য। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”