জনগণের চরম ভোগান্তি ও হয়রানির আরেক নাম হয়ে উঠেছে খুলনা দিঘলিয়া উপজেলার ‘মোড়লঘাট’ খেয়া পারাপার। ফুলবাড়ি গেট টিবি হাসপাতাল ও দিঘলিয়ার মোড়ল মার্কেটের সংযোগকারী এই ঘাটে প্রতিদিন শত শত রোগী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ পারাপার হন। অথচ ঘাটের ইজারাদার ও মাঝিদের স্বেচ্ছাচারিতা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং মারমুখী ব্যবহারে নাভিশ্বাস উঠেছে নদী পারাপার হওয়া সাধারণ মানুষের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত খেয়া পারাপারের ভাড়া ৫ টাকা থাকলেও মাঝিরা কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা তোয়াক্কা না করে প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। কেউ অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই মাঝিদের কাছ থেকে শুনতে হয় “নৌকা থেকে নেমে যান” বা “পার হওয়া লাগবে না” টাইপের সরাসরি হুমকি। এমনকি নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের সাথেও চরম অবমাননাকর ও অশ্লীল ভাষায় কথা বলার অভিযোগ উঠেছে ট্রলার মাঝিদের বিরুদ্ধে।
ঘাটে পারাপারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা ভুক্তভোগী রহিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “টিবি হাসপাতালে ওষুধ আনতে যাই। একটু বেলা বাড়লেই ওরা দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। না দিতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ইউএনও স্যার বা স্থানীয় প্রশাসন কি এসব অনিয়ম দেখে না?”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে একই ইজারাদার বা সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ঘাটের ইজারা ও কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে। ফলে প্রশাসনের তদারকির অভাবে ঘাটের চালকরা হয়ে উঠেছে অনিয়ন্ত্রিত।
জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে দৃশ্যমান রেটচার্ট টানানো এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি নিরসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী জনগণ।