কওমি মাদ্রাসার প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি রক্ষা, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ৬ দফা সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক খোলা চিঠির মাধ্যমে তিনি দেশের শীর্ষ আলেম ও মাদ্রাসা দায়িত্বশীলদের প্রতি এই উদাত্ত আহ্বান জানান।
শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, কওমি মাদ্রাসা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং কোনো প্রকার রাষ্ট্রীয় অনুদান ছাড়াই লাখ লাখ এতিম ও দুস্থ শিশুর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের প্রতি শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের ওপর ছায়া ফেলছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইসলামে শিশুদের সাথে কোমল আচরণের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে এবং অনৈতিক যৌনচারকে কঠিন গোনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিছু তথাকথিত শিক্ষকের নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ড অত্যন্ত লজ্জাজনক।” সংবাদমাধ্যমের অতিরঞ্জন বা ষড়যন্ত্রের অজুহাতে বিদ্যমান বাস্তব সমস্যাগুলোকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সুরক্ষায় শায়খ আহমাদুল্লাহর ৬টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব:
১. কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি গঠন: ‘আল-হাইআতুল উলয়া’র পক্ষ থেকে শীর্ষ আলেম, আইন ও মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের হাতে সোপর্দ করা ও শিক্ষকদের জন্য ‘সেন্ট্রাল ব্ল্যাকলিস্ট’ তৈরি করা।
২. অভিযোগ গ্রহণ সেল ও হটলাইন: ভুক্তভোগী শিশু ও অভিভাবকদের জন্য গোপনীয়তা বজায় রেখে সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ হটলাইন চালু ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দেওয়া।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত সংস্কার: ক্লাস ও আবাসিক হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত অনাবাসিক শিক্ষা উৎসাহিত করা, গণরুমের বিছানা পদ্ধতির পরিবর্তন এবং শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সেবা নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা।
৪. শিক্ষক ও স্টাফদের পরিবেশ উন্নয়ন: শিক্ষকদের জন্য আচরণ বিধিমালা প্রণয়ন, শিশু মনস্তত্ত্ব নিয়ে প্রশিক্ষণ, নিয়োগে বিবাহিতদের অগ্রাধিকার এবং ফ্যামিলি কোয়ার্টার বা নিয়মিত ছুটির ব্যবস্থা করা।
৫. নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতিমালা: মহিলা মাদ্রাসাগুলো সম্পূর্ণভাবে নারী কর্মকর্তা ও স্টাফ দ্বারা পরিচালনা করা। প্রধান ফটকের নিরাপত্তা প্রহরী ছাড়া কোনো অবস্থাতেই পুরুষ শিক্ষক না রাখা।
৬. অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ: যেখানে-সেখানে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত ও মানহীন প্রাইভেট মাদ্রাসাগুলোকে সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতির আওতায় আনা।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, কওমি মাদ্রাসার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে শীর্ষ আলেমগণ আত্মপক্ষ সমর্থনের ঊর্ধ্বে উঠে এই প্রস্তাবগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।