মানবজীবনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শারীরিক-মানসিক নানা সংকটের মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। তবে চিকিৎসা বা বস্তুগত উপায়ে ব্যাখ্যা করা যায় না—এমন কিছু অদৃশ্য সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো বদনজর ও কালো জাদু। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে, বদনজর লাগা একটি সত্য বিষয় এবং কালো জাদু বা জাদুটোনা ধ্বংসাত্মক গোনাহের অন্তর্ভুক্ত। এসব অনিষ্ট থেকে আত্মরক্ষা ও সুরক্ষার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) একাধিক দোয়া ও নির্দেশিত আমল দিয়ে গেছেন।
বদনজর ও জাদুটোনার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বেঁচে থাকার ৫টি বিশেষ আমল নিচে তুলে ধরা হলো:
সকাল-সন্ধ্যার বিশেষ দোয়া: প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার “বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়াহুওয়াস সামিউল আলিম” পাঠ করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, এটি পাঠ করলে আসমান-জমিনের কোনো কিছু ক্ষতি করতে পারে না।
সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া: প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনবার “আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাকা” পাঠ করা।
ঝাড়-ফুঁক বা নিরাময়ের বিশেষ দোয়া: হাদিস অনুযায়ী, কোনো ক্ষতি অনুভব করলে “বিসমিল্লাহি আরকিকা মিন কুল্লি শাইয়্যিন ইউজিকা…” দোয়াটি পাঠ করে ফুঁ দেওয়া অত্যন্ত কার্যকরী।
সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ: প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস তিনবার করে পাঠ করার ওপর জোর দিয়েছেন ইসলামি স্কলাররা।
সুরা ফাতেহা (সুরা শিফা) তিলাওয়াত: বদনজর ও জাদুটোনার নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিফা বা আরোগ্য লাভের জন্য সুরা ফাতেহা পাঠ করা উত্তম।
নিয়মিত এসব আমল পালন ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার মাধ্যমে যেকন অদৃশ্য অনিষ্ট ও হিংসা-ঈর্ষার ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকা সম্ভব।