রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পাঠক ফোরামের উদ্যোগে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে আমন্ত্রিত বক্তারা চব্বিশের জুলাইয়ে তরুণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের অতুলনীয় আত্মত্যাগ, দেশ থেকে স্বৈরাচারের অবসান এবং তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ভয়াবহ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। জেন-জি প্রজন্মের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে দেশের জেন-জি প্রজন্মের তরুণরা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা থেকে দেশের প্রবীণ নাগরিকদেরও শিক্ষা নেওয়া উচিত। বাংলাদেশের সাহসী তরুণরাই দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান স্মরণীয় হয়ে থাকুক।”
বিগত আমলের গুম ও খুনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “তদন্তের সময় সাক্ষীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে যে ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বিগত সময়ে, অনেক মানুষকে কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই তুলে নিয়ে যাওয়া হতো। পরিবারের সদস্যরা বুঝে ওঠার আগেই তারা নিখোঁজ হয়ে যেতেন।”
সেমিনারে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো এখনো পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি, তারা এখনও মূলত ক্ষমতার অংশীদারিত্ব নিয়েই ব্যস্ত।” তিনি আরও যোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা, আত্মসমালোচনা এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, “চব্বিশের জুলাই নতুন এক ইতিহাসের সূচনা করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগকে জাতীয় ইতিহাসে সর্বোচ্চ সম্মানের আসনে স্থান দিতে হবে।” একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিসমূহের মধ্যকার বিভাজন জাতির জন্য কখনো ভালো কিছু বয়ে আনবে না।