ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র বাকি কয়েক দিন। প্রিয়জনদের সাথে ঈদের স্মৃতি ভাগাভাগি করতে আজ সোমবার (২৫ মে) ট্রেনের ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে মেতে উঠেছে ঘরমুখো মানুষের চেনা কলরবে।
আজ মূলত যারা গত ১৫ মে অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন, তারাই ঢাকা ছাড়ছেন। চিরচেনা উপচে পড়া ভিড়ের মাঝেও এবারের ঈদযাত্রায় যোগ হয়েছে এক ঐতিহাসিক ও স্বস্তির ছোঁয়া—আন্তনগর ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ বগি।
নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ যাত্রা:
এবারের ঈদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ও চমৎকার উদ্যোগ হলো আন্তনগর ট্রেনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত বিশেষ বগি। আজ সকালে কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে এসে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এই বিশেষ সেবার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। দূরপাল্লার ঢাকা-সিলেট রুটের ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেন দিয়ে আজ এই সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় নারী ও শিশুদের দূরপাল্লার ভ্রমণ নিরাপদ ও আরামদায়ক করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, এটি শুধু ঈদের জন্য সাময়িক কোনো সুবিধা নয়, বরং ঈদের পরও স্থায়ীভাবে নারীদের এই বিশেষ বগি চালু থাকবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য রুটের ট্রেনেও এই অনন্য সেবা যুক্ত করা হবে।
উপচে পড়া ভিড় ও কড়া শৃঙ্খলা:
উৎসবের এই মৌসুমে স্টেশনে তিল ধারণের ঠাঁই না থাকলেও এবার শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। টিকিট ছাড়া কাউকেই স্টেশনের মূল প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সাথে টিকিটের নাম নিখুঁতভাবে মিলিয়ে তবেই যাত্রীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এবার ট্রেনের ছাদে কোনো যাত্রীর ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ দেখা যায়নি। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন আশা প্রকাশ করে বলেন, “পোশাক কারখানা ছুটি হলেও শেষ পর্যন্ত এই সুন্দর ও কঠোর শৃঙ্খলা ধরে রাখা সম্ভব হবে।”
উত্তরবঙ্গের ট্রেনে কিছুটা অপেক্ষা, বাকি সব সময়মতো:
ঈদযাত্রার আনন্দঘন পরিবেশের মাঝে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের আজ কিছুটা অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়েছে। দুপুরের হিসাব অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ঢাকা থেকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৪০ মিনিট এবং ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিলম্বে কমলাপুর ত্যাগ করেছে।
রংপুরের যাত্রী হাফিজুর রহমান জানান, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করাটা কষ্টের, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রে প্রতি ঈদেই এমনটা ঘটে। তবে রেলওয়ে মহাপরিচালক জানান, ঈদের সময় স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রীদের নামতে ও উঠতে বেশি সময় লাগে। এছাড়া এই ঝড়বৃষ্টির দিনে লাইনে গাছপালা পড়েও অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দেরি হয়। অবশ্য এই দুটি ট্রেন বাদে দুপুর পর্যন্ত বাকি ১৩টি আন্তনগর এবং ৯টি কমিউটার ট্রেন একদম কাঁটায় কাঁটায় সঠিক সময়ে ঢাকা ছেড়ে গেছে।
সহজ যাতায়াতে অতিরিক্ত বগি:
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, এবারের ঈদযাত্রাকে আরও স্বস্তিদায়ক করতে বিভিন্ন রুটের ট্রেনে নতুন ৫১টি বাড়তি বগি যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪০ হাজার মানুষ অনায়াসে বাড়ি যেতে পারছেন। বর্তমানে প্রতিদিন ৪৫ হাজারেরও বেশি আসনের টিকিট বিক্রির পাশাপাশি যাত্রার ২ ঘণ্টা আগে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং (দাঁড়ানো) টিকিট দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার যাত্রী কোনো বড় ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তির হাসি নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন।