কালান্তর নিউজ ডেস্ক
২ নভেম্বর ২০২৬, ১:০২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বড়ভিটা ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, সরকারি নথিতে পাঁচজনের নাম

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নে অবস্থিত বড়ভিটা আফজালুল উলুম বহুমুখী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে জাল কাগজপত্র, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। সম্প্রতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত একটি সরকারি চিঠি ও সংযুক্ত তালিকা সামনে আসার পর প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের স্মারক নম্বর উমাশিঅ/কিশোর/নীল/১৯৬/২০২৪-এর মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে নতুন এমপিও ফাইলসংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হয়। চিঠিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ. টি. এম. নুরুল আমিন শাহের স্বাক্ষর রয়েছে।

চিঠির বিষয়বস্তুতে জাল ও ভুয়া নতুন এমপিও ফাইলসংক্রান্ত তথ্য প্রেরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকায় বিভিন্ন অসংগতির বিষয় তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

সরকারি তালিকায় পাঁচজনের নাম

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত সংযুক্ত তালিকায় বড়ভিটা আফজালুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার পাঁচজন শিক্ষক-কর্মচারীর নাম, পদবি, যোগদানের তারিখ এবং নিয়োগসংক্রান্ত মন্তব্য উল্লেখ রয়েছে।

১. মোঃ নুরুন্নবী

  • পদবি: অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর।
  • যোগদান: ২৯ জুলাই ২০১৪।
  • তালিকার মন্তব্যে তাঁর নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রকে জাল ও ভুয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দাখিল করা শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকায় তাঁর নাম না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

২. মোছাঃ লায়লা আক্তার লূনা

  • পদবি: আয়া।
  • যোগদান: ১৩ অক্টোবর ২০১৫।
  • তালিকার মন্তব্যে জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নিয়োগের অভিযোগ উল্লেখ রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জনবল কাঠামো ও এমপিওভুক্তির বিষয়েও মন্তব্য করা হয়েছে।

৩. মোঃ মনিরুল ইসলাম

  • পদবি: এমএলএসএস।
  • যোগদান: ১৩ অক্টোবর ২০১৫।
  • তাঁর নিয়োগের ক্ষেত্রেও জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরির বিষয়টি তালিকার মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

৪. শবনম শারমিন

  • পদবি: সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি)।
  • যোগদান: ৯ মে ২০১৪।
  • তালিকার মন্তব্যে জাল কাগজপত্র তৈরি করে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। অনলাইনে নতুন এমপিও ফাইল পাঠানোর ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান তালিকার অমিলের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. মোঃ মোশারেউল আলম

  • পদবি: প্রভাষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি)।
  • যোগদান: ১২ ডিসেম্বর ২০১৫।
  • তালিকার মন্তব্যে জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগ উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ২ আগস্টের শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকায় তাঁর নাম না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটির নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। কয়েকটি নিয়োগে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তালিকাভুক্ত মোঃ নুরুন্নবী অধ্যক্ষ অহিদুল ইসলামের শ্যালকের ছেলে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে দাখিল করা শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকা, অনলাইন এমপিও আবেদন ও নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে অসংগতির বিষয় উঠে আসায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং এমপিওসংক্রান্ত মূল নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তাঁদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জালিয়াতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তাঁদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

অধ্যক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে বড়ভিটা আফজালুল উলুম বহুমুখী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অসম্মতি প্রকাশ করেন। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে বাধার প্রতিবাদে মিরসরাইয়ে মানববন্ধন

১

বড়ভিটা ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, সরকারি নথিতে পাঁচজনের নাম

২

শিববাড়ি মোড় নয়, বিকল্প ভেন্যুতে সমাবেশ চান খুলনাবাসী

৩

ছেলের এইচএসসি পাসের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, বিলুপ্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদল কমিটি

৪

রাজশাহীতে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার!

৫

অ্যাম্বুলেন্সে ইয়াবা পাচার, ১৭ লাখ টাকার মাদকসহ আটক ২

৬

মিরসরাইয়ের মাঠ কাঁপানো কণ্ঠ সাইদুল ইসলাম, ধারাভাষ্যে মুগ্ধ হাজারো দর্শক

৭

সবুজ বাংলা উত্তাল কলমেঃ মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান

৮

ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ইয়াবা-হেরোইনসহ গ্রেফতার ৬

৯

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার আহ্বান, বড়ভিটায় ফুটবল ফাইনাল

১০

বাংলাদেশ নিয়ে ভয়ঃ কলমে মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান

১১

এক সপ্তাহের সফরে ২২ নভেম্বর বাংলাদেশে আসছেন বিশ্ববরেণ্য আলেম মুফতি তাকি উসমানী

১২

ইউনিয়ন নির্বাচন,বড়দল দক্ষিণে ভোটের আলোচনায় নাসির মিয়া।

১৩

জাতীয় যুব দিবসে মিরসরাইয়ের ফয়সাল আলম পেলেন শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তার সম্মাননা

১৪

খুলনায় আস্থা ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, দেশব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা

১৫

উৎসবমুখর আয়োজনে আগামীকাল জবি দিবস, প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৬

জবি দিবসে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, নিরাপত্তায় কঠোর নির্দেশনা

১৭

খুলনায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁতি দলের নেতা হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা

১৮

‘শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে’, গার্মেন্টস সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রতি জামায়াত আমিরের আহ্বান

১৯

৩০ হাজার ইয়াবা লুটের গুরুতর অভিযোগ: চাঁদপুরের কনস্টেবল ফয়েজসহ প্রত্যাহার ৩ পুলিশ সদস্য

২০