খুলনা নগরীতে সমাবেশের জন্য একাধিক খোলা মাঠ ও নির্ধারিত স্থান থাকলেও বারবার কেন নগরীর ব্যস্ততম শিববাড়ি মোড়কে বেছে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী। তাঁদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে বিকল্প ভেন্যুতে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ আয়োজন করা হোক।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের পথসভা নগরীর শিববাড়ি মোড়ের বাবরী চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ও যানবাহনের চাপ তৈরি হলে খুলনা-যশোর মহাসড়কসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নগরবাসীর ভোগান্তির চিত্র
শিববাড়ি মোড় খুলনা নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। এখানকার সড়ক চলাচল ব্যাহত হলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এর প্রভাব পড়ে।
নগরবাসীর অভিযোগ, সমাবেশের কারণে সড়কে যান চলাচল বন্ধ বা সীমিত হলে কয়েক ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।
১. অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী পরিবহন: শিববাড়ি মোড়ের যান চলাচল বন্ধ হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগামী রোগীবাহী যানবাহন বাধার মুখে পড়ে। জরুরি রোগী পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
২. শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী মানুষ সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়েন।
৩. গণপরিবহন ও যাত্রী ভোগান্তি: সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও নগরীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।
৪. ব্যবসায়িক ক্ষতি: ডাকবাংলা, পিকচার প্যালেস ও শিববাড়ি এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হলে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যায়।
বিকল্প সমাবেশস্থল নিয়ে আলোচনা
নগরবাসীর মতে, শিববাড়ি মোড়ের পরিবর্তে নগরীর কয়েকটি বিকল্প স্থানে সমাবেশ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এর মধ্যে রয়েছে সার্কিট হাউস মাঠ, হাদিস পার্ক, সোনালী ব্যাংক চত্বর এবং জিয়া হল চত্বর। এসব স্থানে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে সভা-সমাবেশ আয়োজন করা সম্ভব কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে।
বিশেষ করে জিয়া হল চত্বর শিববাড়ি এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে সড়ক দখল না করে মাঠকেন্দ্রিক কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
নগর পরিকল্পনা ও যান চলাচল নিয়ে প্রশ্ন
শিববাড়ি মোড় খুলনা-যশোরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা জরুরি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বড় ধরনের সমাবেশ আয়োজনের আগে বিকল্প সড়ক, জরুরি যানবাহনের চলাচল এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে খুলনা সিটি করপোরেশন, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
নগরবাসীর দাবি ও প্রত্যাশা
নগরবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে—
১. শিববাড়ি মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বড় ধরনের সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা।
২. সার্কিট হাউস মাঠ ও হাদিস পার্কসহ উপযুক্ত স্থানগুলোকে সমাবেশের বিকল্প ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া।
৩. রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ার আগে যানজট, জরুরি সেবা ও জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করা।
৪. সমাবেশ চলাকালে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা।
খুলনা নগরীতে এমনিতেই যানজট ও নাগরিক ভোগান্তি রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ুক, তা কেউ চান না।
রাজনৈতিক কর্মসূচি গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সেই কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের চলাচল, জরুরি সেবা ও নাগরিক সুবিধার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। নগরবাসীর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি নগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও সচল রাখা হবে।