‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বরগুনা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’।
জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টায় বরগুনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মেলার শুভ উদ্বোধন করেন বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার। মেলাটি আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার শুরুতে জেলা শহরে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে বরগুনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “একটি গাছ একটি প্রাণ। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের এই উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে শুধু চারা গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি বরগুনার প্রতিটি নাগরিককে নিজস্ব উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে সবুজ বরগুনা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত থেকে বক্তব্য দেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার তন্ময় বিশ্বাস, উপকূলীয় বন বিভাগ পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ জেড এম সালেহ ফারুক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সেক্রেটারি আবদুর শাকুর এবং নার্সারি মালিক মোস্তাকিন উপস্থিত ছিলেন। তারিক বিন আনসারী সুমনের সঞ্চালনায় সভায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখননসহ পরিবেশ রক্ষায় নেওয়া উদ্যোগের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ আন্দোলনকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
উল্লেখ্য, বরগুনা শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এই মেলায় স্থানীয় নার্সারি মালিকদের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারার বিশাল প্রদর্শন ও সুলভ মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।