লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য লতিফুলের বিরুদ্ধে এক যুবকের নিকট ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতির শিকার ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন নিজেও একই ইউনিয়নের জামায়াতের যুব বিভাগের সদস্য।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, একই দলীয় পরিচয়ের কারণে তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছিল গভীর বিশ্বাস ও সুসম্পর্ক। এই সুযোগ নিয়ে লতিফুল ভুক্তভোগী যুবনেতা নাসিরকে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। ভিসা প্রসেসিং ও প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্রের অযুহাত দেখিয়ে গত বছর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় নাসিরের কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন লতিফুল।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নাসির বিদেশে যাওয়ার ভিসার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে, অভিযুক্ত লতিফুল কম্পিউটার থেকে তৈরি একটি জাল বা ভুয়া ভিসা তার হাতে তুলে দেন। অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগে নাসির বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারেননি। পরবর্তীতে বাকি টাকা পরিশোধের জন্য নিজের জমানো সঞ্চয়, ব্যাংক ঋণ এবং নিজের একমাত্র উপার্জনের সম্বল অটোরিকশা বিক্রি করে দেন নাসির। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে টাকা হস্তান্তরের কথা বললে লতিফুল তাতে অস্বীকৃতি জানান এবং গোপনে একাকী টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দেন।
লতিফুলের এমন অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ হলে নাসির তার বড় ভাইকে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে তার বড় ভাই খোঁজ-খবর নিয়ে ও যাচাই করে নিশ্চিত হন যে ভিসাটি সম্পূর্ণ ভুয়া। বিষয়টি প্রকাশিত হয়ে পড়লে ভুক্তভোগী পরিবার লতিফুলের কাছ থেকে তাদের কষ্টে অর্জিত টাকা ফেরত দাবি করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন ধরনের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া শুরু করেন অভিযুক্ত লতিফুল। প্রতারক লতিফুলের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার একাধিক বার চেষ্টা করলে হয়ে উঠেনি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতারক লতিফুল কেবল নাসিরের সঙ্গেই নয়, পুরো বাংলাদেশে এক বিশাল মানবপাচার চক্র গড়ে তুলেছেন। বিদেশে পাঠানোর নামে শত শত নিরীহ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে জালিয়াতি ও মানবপাচারের মতো অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বহু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, এ ধরনের জালিয়াতি ও মানবপাচার চক্রের মূলহোতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি কীভাবে এখনও নওদাবাস ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য পদে বহাল থাকেন? অনতিবিলম্বে তাকে দল থেকে চূড়ান্ত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় প্রতারক লতিফুলের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর রাজপথের কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।