ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গভীর রাতে বসতঘরের জানালার রড ভেঙে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী মোটরসাইকেলসহ দুই অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
বর্তমানে মারাত্মক অসুস্থ ও রক্তাক্ত অবস্থায় ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই নারকীয় ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার জানায়, অসুস্থ দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য তাঁর মা ও চাচা ফরিদপুর সদরের একটি হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে ওই কিশোরী তার ছোট ভাই ও বোনকে নিয়ে ছিল। রাত ১টার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ঘরটি ঘিরে ফেলে দরজায় আঘাত করতে থাকে। ভেতর থেকে দরজা না খুললে দুর্বৃত্তরা জানালার রড ভেঙে জোরপূর্বক ঘরে ঢোকে এবং চুলে ধরে হিঁচড়ে কিশোরীকে বের করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে তাকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি নির্জন পুকুরপাড়ে নিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। দলবদ্ধ ধর্ষণের পর কিশোরী নিস্তেজ হয়ে পড়লে রাত ৩টার দিকে তাকে বাড়ির সামনে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া দিয়ে হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬) নামের দুইজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে সদরপুর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগীর মা বলেন, “হাসপাতালে শাশুড়ির চিকিৎসার খবর পেয়ে এসে দেখি মেয়ের এই অবস্থা। ঘরের জানালা ভেঙে অবুঝ মেয়েটাকে তুলে নিয়ে এমন সর্বনাশ করল! আমি এই পশুপাখিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম বলেন, “অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। আটককৃত দুজন থানা হেফাজতে রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”