রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শুরু হয়েছে। আজ শুনানিকালে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পাশাপাশি ক্ষমা প্রার্থনা করে ঘাতক সোহেল রানা বলেন, “আমার একটা ছাওয়াল (ছেলে) আছে, আমাকে ক্ষমা করে দেন স্যার।” একই সাথে সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে খালাসও চেয়েছে।
আজ বুধবার (৩ জুন) বেলা ১১টা ৯ মিনিটের দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের এই আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শুরু হয়।
‘আমিও দোষ করেছি, খালাস চাই’:
শুনানি চলাকালীন বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানার কাছে তাঁর নিজের কোনো বক্তব্য আছে কিনা জানতে চান। তখন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সোহেল রানা বলে, “স্যার, আমার সঙ্গে ‘ডলার’ (পলাতক আসামি) ছিল, তাকে কেউ দেখেনি। তাকে ধরেন। আমিও দোষ করেছি, কিন্তু একা দোষী না। আমার একটা ছাওয়াল আছে। আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি নির্দোষ, খালাস চাই।”
এক দিনেই ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন:
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) মামলার প্রথম দিনে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিহত শিশু রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজন, প্রতিবেশী, প্রত্যক্ষদর্শী এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ (আইও) গুরুত্বপূর্ণ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলার পরবর্তী ধাপের আবেদন জানানো হলে, আদালত তা মঞ্জুর করে আজ বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন।
সারসংক্ষেপ ও মামলার নেপথ্য:
গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসার মস্তকবিহীন এবং হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন করা খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী মাদকাসক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, ইয়াবা সেবনের পর সে শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর তার মা দরজায় কড়া নাড়লে ধরা পড়ার ভয়ে সে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথাটি কেটে বালতিতে লুকিয়ে রাখে। এই নৃশংসতায় সহযোগিতা করার অভিযোগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।