রাজশাহী নগরীতে গভীর রাতে তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি ও একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গোপন বৈঠকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৯ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নগরীর অলকার মোড় এলাকার ‘মাস্টার শেফ রেস্টুরেন্টে’ গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা ও একাধিক মাদক মামলার আসামি আব্দুর রহিম টিপু, জসিম এবং ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বৈঠকে মিলিত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে টিপু ও জসিমকে একসঙ্গে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোশারফ হোসেন মূলত টিপুর ব্যবসায়িক অংশীদার এবং অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তবে গভীর রাতের ওই গোপন বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বা সেখানে আর কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়া গেলেও বিষয়টি নিয়ে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য ও জল্পনা-কল্পনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহিম টিপুর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি মামলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। ২০১৭ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত রাজশাহীর শীর্ষ ১৫ তালিকাভুক্ত মাদক কারবারির তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এমনকি গত ৭ মে উদ্ধার হওয়া ৪ কেজি ৩০০ গ্রাম হেরোইন সংক্রান্ত মামলায়ও তাকে প্রধান আসামি করা হয়। শুধু টিপু নন, তার দুই ভাই মেহেদী হাসান ও সোহেল রানার বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, গত ১৭ বছরে অবৈধ উপায়ে এই পরিবারের সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। রাজশাহী শহরের আলীগঞ্জে বহুতল ভবন ও মার্কেট, নিউমার্কেট ও সাহেববাজারে একাধিক দোকান, গোদাগাড়ীতে খামার, মাদারপুরে একাধিক বাড়িসহ বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ও যানবাহনের মালিক বনে গেছেন তারা।
একাধিক পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও আসামিরা কীভাবে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন—এমন প্রশ্ন তুলে স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “টিপু ও জসিমের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। কেবল তারা নন, তালিকার সব মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তাদের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে সনাক্ত করতে পারলেই দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
অবশ্য সচেতন মহল মনে করছেন, ভাইরাল ভিডিও ও এর পেছনে জড়িতদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হওয়া প্রয়োজন।