রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ এই বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করবেন।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে গত ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি (৭ জুন) ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু এবং আসামি পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহ আদালতে নিজ নিজ পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। পিপি আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের অপরাধের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল স্বীয় বিবেচনায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেবেন— এটাই আমাদের ও ভুক্তভোগী পরিবারের প্রত্যাশা।”
এর আগে গত ৩ জুন এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চায়। তবে অপর আসামি ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
যেভাবে নৃশংসতার শিকার হয় শিশু রামিসা:
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে রামিসাকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। পরে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে তিনি রামিসার জুতা দেখতে পান।
সন্দেহ হওয়ায় রামিসার বাবা-মা এবং ওই ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা মিলে দরজা ভেঙে আসামিদের কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা শিশু রামিসার খণ্ডিত ও রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রেকর্ড সময়ে বিচার প্রক্রিয়া:
হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২০ মে রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে নিজের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান মাত্র কয়েকদিনের মাথায় গত ২৪ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। একই দিনে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক চার্জশিটটি আমলে নেন।
এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র কয়েকদিনে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য প্রদান করেন। অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে সাক্ষ্য গ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।