দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়া কলেজ শিক্ষার্থীকে নোয়াখালীর মাইজদী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় অপহরণ, অচেতনকারী রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ এবং যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। পরিবারের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ছুটির শেষে বাড়ি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরার পথে ওই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ফুলবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডির ভিত্তিতে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), জেলা সাইবার টিম ও ফুলবাড়ী থানা পুলিশ যৌথ অনুসন্ধানে নামে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা অচেতনকারী কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহার করে শিক্ষার্থীকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে নিয়ে যায়। উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, চট্টগ্রামে আলমগীর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হলে ওই ব্যক্তি সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে তাকে নিজের হেফাজতে নেয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে আলমগীর নামের ওই ব্যক্তি তাকে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখতে তাকে বারবার ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে রাখা হতো। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা হয়ে নোয়াখালী নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টানা ৪৮ ঘণ্টার প্রযুক্তিনির্ভর অভিযানে গতকাল নোয়াখালীর মাইজদী এলাকা থেকে শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল অভিযুক্ত আলমগীর পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আলমগীরসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপহরণ ও নির্যাতন চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কেমিক্যাল ব্যবহার ও অপহরণের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।