নির্বাচনের আগে সাধারণ জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ বুধবার (২০ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ছাদ ঢালাই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজের আবেগঘন বক্তব্য তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “আমি সব সময় আপনাদের বলেছি, এটি আমার শেষ নির্বাচন। আমি আজ আবারও বলছি, এটি হয়তো আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। তাই জীবনের শেষলগ্নে এসে নির্বাচনের আগে আমি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতিগুলো সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করতে চাই।”
ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য মেগা সুখবর:
ঠাকুরগাঁও সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের ঘোষণা দেন। তিনি জানান:
১. নতুন দুই উপজেলা: প্রশাসনিক কাজ সহজ ও নাগরিক সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভেঙে আরও দুটি নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়া গেছে।
২. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রাণের দাবি—ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলেছে।
৩. মেডিকেল কলেজ: স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমতিও নিশ্চিত হয়েছে।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “খুব দ্রুতই এই তিনটি মেগা প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ মাঠপর্যায়ে শুরু করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ে আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় প্রতিষ্ঠান আনার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।”
এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা:
ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি আপনাদের এই এলাকারই সন্তান। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে আপনারা আমাকে সবসময় ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন, অনেক সাহায্য করেছেন। এই ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ আমাকে কখনো বিমুখ করেনি। আমি যতবার আপনাদের সামনে এসেছি, আপনারা আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।”
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের চলমান বহুতল নির্মাণকাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে এলাকার সর্বস্তরের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। এ সময় মসজিদের সম্মানিত মুসল্লিরা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।