তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের রাজনৈতিক কৃতিত্ব নিতে জামায়াতসহ ১১ দল মাঠে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই মহাপরিকল্পনা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং সরকার তা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে পঞ্চগড়-নীলফামারী সীমান্তে নির্মাণাধীন ‘পঞ্চগড় গেট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বর্তমান সরকার যখন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, ঠিক তখনই জামায়াতসহ ১১ দল সস্তা কৃতিত্ব নেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক আন্দোলনে নেমেছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার কথার চেয়ে বাস্তবে কাজ করায় বিশ্বাসী। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকার মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করার আগে যে সমস্ত রাজনৈতিক দলের এই প্রকল্প নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা উদ্যোগ ছিল না, তারাই এখন রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে ‘ক্রেডিট’ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “স্ট্যান্টবাজির রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবে না।”
প্রতিমন্ত্রী উত্তরবঙ্গবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল বাস্তবায়ন কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে এবং সরকার এ বিষয়ে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর পাশাপাশি পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চগড় গেট নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় জেলা পরিষদ পঞ্চগড়ের সার্বিক পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বারটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা, পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকারসহ স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।