কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তুলারভিটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি জটিল জমি-সংক্রান্ত বিরোধ অবশেষে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিচারকমণ্ডলীর নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপে দীর্ঘ ভোগান্তি শেষে বাদীপক্ষ তাদের পৈত্রিক জমির ন্যায্য দখল ফিরে পেয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগডাঙ্গা দক্ষিণ সরকারটারী গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু সিদ্দিক (পিতা: মৃত সাইফুদ্দিন) এবং একই গ্রামের মো. আব্দুল গফফার, আব্দুল জব্বার, একাব্বর আলী ও মনির হোসেন (ওরফে পনির উদ্দিন) গংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক বাদীপক্ষের পৈত্রিক ও দখলীয় জমিতে ঘর নির্মাণ এবং কয়েকটি গাছ রোপণ করে পুরো জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। এই বেআইনি দখলকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হলে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়াতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাজ ও প্রশাসনের সহায়তায় মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ জুলাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনজ্ঞদের উপস্থিতিতে একটি বড় ধরনের সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ শুনানি ও উভয় পক্ষের দলিলপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে বিচারকমণ্ডলী দেখতে পান যে, বিবাদীপক্ষের কাছে উক্ত জমির মালিকানার পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। অন্যদিকে আবু সিদ্দিকের কাগজপত্র সম্পূর্ণ বৈধ। এরপর উভয় পক্ষের সম্মতিতে জমিটি বিবাদীপক্ষের অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করে প্রকৃত দাবিদার বাদীপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিবাদীপক্ষের ঘর ও গাছ সরিয়ে প্রকৃত মালিক আবু সিদ্দিক গংকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
উক্ত সালিশি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নাগেশ্বরী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক। এ সময় আইনি ও সামাজিক পরামর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সোলায়মান আলী, অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক, অ্যাডভোকেট মাহাবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দীর্ঘদিনের এই জমি-সংক্রান্ত বিরোধের আইনি ও সামাজিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বিচারকমণ্ডলীর শতভাগ নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এলাকার যেকোনো বিরোধ আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান।