নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের প্রকাশ্য ঝটিকা মিছিলের পর লালমনিরহাট জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ, যেখানে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে লালমনিরহাট পৌরসভার তালুক খুটামারা এলাকায় বিজিবি সীমান্ত আয়োজন ক্যান্টিনের সামনে আদিতমারীগামী সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্যানার নিয়ে একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। দায়েরকৃত মামলায় প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পৌর ছাত্রলীগের কনভেনার মেহেদী হাসান রুবেল, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আওরঙ্গজেব, সেজুতি খাতুন, আনিক, শরিফুল ইসলাম, সিজান, কাজী তানভীর খান অভয় ও লতিফুর রহমানসহ ৪৩ জন।
মিছিলের ঘটনার পর শুক্রবার রাত থেকে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে জেলার পাঁচটি থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ভোটমারী ইউনিয়ন যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আজিজার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এরশাদুল হক, আনোয়ার হোসেন ও রিপন চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার করে।
পাটগ্রাম থানা পুলিশ রসুলগঞ্জ এলাকার ছাত্রলীগ কর্মী শাহরিয়ার শামীম এবং বুড়িমারী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি তুহিনুজ্জামান বাবুকে গ্রেফতার করে।
হাতীবান্ধা থানা পুলিশ ফকিরপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আদনান হোসেন শুভকে এবং আদিতমারী থানা পুলিশ ভাদাই ইউনিয়নের আরাজি দেওয়াডেবা গ্রামের নজরুল ইসলামকে আটক করে।
এছাড়া সদর থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে কালীবাড়ি এলাকার লতিফুর রহমান, খোর্দ সাপটানার সিফাত হোসেন এবং সাবেক সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাপটিবাড়ী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মোতালেব খন্দকারকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার দুপুর ও সন্ধ্যায় গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন সুমা বলেন, “জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের কঠোর অবস্থান বজায় রয়েছে। ছাত্রলীগের প্রকাশ্য মিছিলের পর জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাঁচটি থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে ১২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”