লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ৩০ লাখ টাকা লেনদেন কেন্দ্রিক বিরোধে ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রী সালেহা বেগমকে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় জামায়াতে ইসলামীর রুকন আবু বকর ছিদ্দিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে আবু বকর ছিদ্দিক লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন এবং চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।
আদালত ও মামলার চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, সালেহা বেগমকে গোপনে বিয়ে করেন আবু বকর। জমি কেনার জন্য সালেহার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেন তিনি। পরবর্তীতে জমি না কিনে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করলে সম্পর্কের অবনতি হয় এবং ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মো. সেলিম নামে এক ভাড়াটে খুনিকে নিয়োগ দেন আবু বকর। ২০২৫ সালের ১৫ জুন রাতে নির্জন স্থানে নিয়ে সালেহাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে সেলিম এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরদিন ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে সাহেলা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সেলিমকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও আবু বকরের পরিকল্পনার কথা ফাঁস করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে সেলিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী উভয়কে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। প্রধান আসামি সেলিম আগেই কারাগারে ছিলেন, পলাতক আবু বকর পরোয়ানা জারির পর সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
বাদীর আইনজীবী আমজাদ হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চার্জশিটভুক্ত আসামি আবু বকরের জামিন নামঞ্জুর করে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।