দেশে ক্রমবর্ধমান অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। দলটি অভিযোগ করেছে, দেশে হত্যাকাণ্ড, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ দিন দিন বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতা অত্যন্ত হতাশাজনক।
বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। আমিরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে বৈঠকটি পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
সীমান্ত হত্যা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা:
বৈঠকে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, গত এক সপ্তাহে সীমান্তে তিন বাংলাদেশি নিহত হলেও ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব না করা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা। একইসঙ্গে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে ‘পুশইনের’ অপচেষ্টাকে ভারতের ‘আধিপত্যবাদী আচরণ’ বলে অভিহিত করেন তারা।
** দ্রব্যমূল্য ও কোরবানি পশুর হাট:**
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে উল্লেখ করে বৈঠকে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ইজারায় অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবিধান সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া:
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণভোটের রায়ের আলোকে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। জুলাই গণহত্যার বিচার ত্বরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনালে জনবল বাড়ানো এবং শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবি জানানো হয়। এছাড়া বন্যা মোকাবিলায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও নদী কেন্দ্রিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন তারা।