নীলফামারীর জলঢাকায় জমি দখল, মিথ্যা মামলা, মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে গোলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার। সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৪টায় উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা গ্রামে ভুক্তভোগী পরিবারের নিজ বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০১৩ সালে মো. আমিনুর রহমানের কাছ থেকে বৈধভাবে জমি কিনে পুরো টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও সাবেক বিএনপি নেতা জহুরুল ইসলামের প্রভাবে আজ পর্যন্ত দলিল হস্তান্তর করা হয়নি। উল্টো জমি রেজিস্ট্রি ও অধিকার দাবি করতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী সুমাইয়া লতাকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে জিন্নার স্কুল বাজার এলাকায় একা পেয়ে নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনেই আসামিরা পুনরায় হামলার হুমকি দেয়। বর্তমানে পুরো পরিবারটি নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এমনকি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহারাকে স্কুলে যাওয়া বন্ধের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সরকার পতনের পর জহুরুল ইসলাম নিজেকে বড় নেতা দাবি করে এলাকায় সালিশ-বিচারের নামে অত্যাচার চালাচ্ছেন। জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তির বাস্তুভিটা দখল ও বিবাদ মীমাংসার নামে সংসার ভেঙে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা ও উপজেলা বিএনপির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে:
১. ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করা।
২. অভিযুক্ত জহুরুল ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা।
৩. ভুক্তভোগী পরিবার ও শিক্ষার্থীদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া।
৪. দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় জহুরুল ইসলামকে বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা।