লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোঁতামারী ইউনিয়নের দইখাওয়া সীমান্ত এলাকায় ৯ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার এবং বিজিবির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দইখাওয়া বিওপির বিজিবি সদস্য বাদী হয়ে মোঃ রুবেল মিয়া ও দবিয়ার রহমান নামে দুইজনের বিরুদ্ধে হাতীবান্ধা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে সীমান্ত এলাকায় টহলকালে বিজিবি সদস্যরা একটি মোটরসাইকেলসহ দুই সন্দেহভাজনকে আটকের চেষ্টা চালান। এ সময় অভিযুক্তরা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে ও আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটি জব্দ করে বিজিবি। সেই মোটরসাইকেলের সঙ্গে থাকা মালামাল তল্লাশি করে ৯ কেজি ৬০০ গ্রাম গাজা উদ্ধার করা হয়।
এদিকে স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, বিজিবির হাতে জব্দ হওয়া মোটরসাইকেলটি স্থানীয় গোঁতামারী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রুহুল আমিন প্রামানিক (ছোটন)-এর। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে ইউপি সদস্য রুহুল আমিন প্রামানিক (ছোটন) দাবি করেন, “মোটরসাইকেলটি আমি প্রায় দেড় বছর আগে রুবেলের কাছে বিক্রি করেছি।” তবে মাদক কারবারে প্রভাবশালীদের মদদ বা অন্যান্য অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত রুবেল ও দবিয়ার দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের আশ্রয়ে সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল। কোনো প্রতিবাদী নাগরিক কথা বলতে গেলে তাঁদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো।
সীমান্তবর্তী এই এলাকায় মাদকের দৌরাত্ম্য বন্ধে এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।