খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ১ নম্বর গাজীরহাট ইউনিয়নের ‘গাজীরহাট হাজী নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এর বাথরুম থেকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যাবেলা বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে নিয়োজিত মিস্ত্রি ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পরপরই ওই ছাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নির্মম ঘটনায় গাজীরহাট জুড়ে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শত বছরের ঐতিহ্যে ঘেরা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বর্বরোচিত ঘটনা আগে কখনো দেখেনি স্থানীয়রা। ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করে আসছে। স্থানীয় বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থাকা একটি অসাধু সিন্ডিকেট স্কুলে বিভিন্ন অসামাজিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, এ ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে স্কুলের ভেতরের এই অপরাধ চক্রের মুখোশ উন্মোচিত হবে।
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মৃণাল পাল, দেবুসহ সকল শিক্ষক ও কতৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সেই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেট থেকে মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
দিঘলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।