জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে ঐতিহাসিক বিজয়ের পর এবার ছুটি নেবেন কি না, গণমাধ্যমকর্মীদের এমন কৌতূহলী প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান স্বভাবসুলভ হাস্যরসে বলেছেন, ‘ভাই, এত ব্যস্ত হইয়েন না।’
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ এই পদে নির্বাচিত হওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার সকালেই নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় ফিরেছেন তিনি।
গত ২ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের শক্তিশালী প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন।
“এই বিজয় বাংলাদেশের, এই বিজয় প্রধানমন্ত্রীর”:
বিজয় অর্জনের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়। এই বিজয় প্রধানমন্ত্রীর। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি যদি এই আন্তর্জাতিক লবিংয়ের সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং দৃঢ়ভাবে, অবিচলভাবে ও বিরোধহীনভাবে আমাদের সমর্থন না করতেন, তাহলে ১০ বছরের এই দীর্ঘ পথ মাত্র ১০ সপ্তাহে আমরা অতিক্রম করতে পারতাম না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা এবং বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরত কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা—আমরা সবাই মিলে যে টিম স্পিরিট নিয়ে কাজ করেছি, এই বিজয়ের পেছনে তার অবদান ছিল বিপুল। এ বিজয় আমরা বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যতের কাছে উৎসর্গ করছি।’
ছুটি না নিয়ে দুই দায়িত্বই একসাথে পালনের ঘোষণা:
মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ের একপর্যায়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, জাতিসংঘের সভাপতি পদের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখন বর্তমান পদ থেকে ছুটিতে যাবেন কি না। এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেসে বলেন, ‘চাকরি ছাড়ব কি না, এটাই তো? না না, ছুটি নেব কি না? ভাই, এত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই! এর সফল নজির আমাদের ইতিহাসেই আছে।’
খলিলুর রহমান অতীত ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, ‘আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগে আমাদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তখন তাঁর একান্ত সচিব (পিএস) ছিলাম এবং তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। উনি ওই দুই পদেই পূর্ণকালীন কাজ সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করেছেন। ওই সময়টা ছিল ইন্টারনেট-পূর্ব যুগ; কিন্তু আজ প্রযুক্তির কল্যাণে আপনি ঘরে বসেই নিরবচ্ছিন্নভাবে দুটি কাজই একসঙ্গে করতে পারেন। ডিজিটাল এই যুগে এটা এখন খুব স্বাভাবিক বিষয়।’
জার্মানির সাবেক এক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের উদাহরণ টেনে বাজারে ছড়ানো গুঞ্জন নাকচ করে খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি আগেও পরিষ্কার করে দিয়েছি। অনেকেই উদাহরণ দিয়ে বলেছেন—বর্তমানে জার্মানিতে যিনি আছেন, তিনি তো পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদ ছেড়ে ওই পদে কাজ করেছেন। আসলে প্রকৃত বিষয়টা হচ্ছে, তিনি গ্রিন পার্টির নেতা ছিলেন এবং তাঁর দল ওই সময় নির্বাচনে হেরে যায়। এ কারণে তিনি আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেননি, জাতিসংঘের পদের জন্য পদত্যাগ করেননি।’