গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নে এক আইসক্রিম ব্যবসায়ীর কারখানা ও বসতঘর ভাঙচুরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে। আজ ২০ জুলাই (সোমবার) সকালে কুশলা ইউনিয়নের বানিয়ারী বাজারে ব্যবসায়ী রিজভী চৌধুরীর সাথে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী আইসক্রিম ব্যবসায়ী রিজভী চৌধুরী জানান, তাঁর ব্যবসায়িক উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদীরা তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। ইতিপূর্বে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম (পিতা: সালাম চৌধুরী) গংয়ের চরম বংশীয় জোর ও ক্ষমতার দাপটের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। এই চক্রটি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আজ ২০শে জুলাই চাঁদাবাজরা রিজভী চৌধুরীর আইসক্রিম কারখানায় এসে চাঁদা আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়। এতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী চরম আতঙ্কিত হয়ে কারখানা বন্ধ করে নিজের বাড়িতে অবস্থান নেন। কিন্তু চাঁদাবাজরা ক্ষিপ্ত হয়ে ৪ থেকে ৬ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। তারা লাঠি, লোহার রড, দা ও রামদা নিয়ে রিজভী চৌধুরীর বসতঘরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র এবং আইসক্রিম দোকানের মালামাল ব্যাপক ভাঙচুর করে। হামলায় প্রায় ২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
এদিকে, প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে বাড়ি ভাঙচুরের এই নৃশংস দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনমনে তীব্র আলোড়ন ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী জানান, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিলে অভিযুক্ত নজরুল, সোহাগ ও রহিমসহ তাদের সহযোগীরা তাকে ৩ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে সরাসরি জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “প্রকাশ্যে এভাবে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চাঁদাবাজি ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত বিব্রতকর ও উদ্বেগের। আমরা ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে চাই। আশা করি প্রশাসন দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই সশস্ত্র অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।”