বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বামীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন ও চমৎকার বার্তা শেয়ার করেছেন দেশের আলোচিত টেলিভিশন উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী। নিজের বিয়ের বেশ কয়েকটি মোহনীয় ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছেন, তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব!’ নবদম্পতির এই পোস্টটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।
চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় টকশো ‘টু দ্য পয়েন্ট’ এবং ‘স্ট্রেইট কাট’সহ বিভিন্ন সময়োপযোগী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া দীপ্তি চৌধুরীর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার বাংলামোটরের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত ঘরোয়া ও আবেগঘন পরিবেশে দীপ্তি চৌধুরীর আক্দ অনুষ্ঠিত হয়।
কে এই ‘মাস্টার সাহেব’?
দীপ্তি চৌধুরীর বরের নাম মুশতাক ইবনে আইয়ুব। পেশাগত জীবনে তিনি একজন অত্যন্ত কৃতি শিক্ষক ও গবেষক। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন। বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি (PhD) সম্পন্ন করার পর বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত।
বিয়ের খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে দীপ্তি চৌধুরীর পরিবারের এক সদস্য বলেন, “ঘরোয়া আয়োজনে কেবল আক্দ সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বড় পরিসরে বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে, যেখানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। দীপ্তি ও মুশতাকের নতুন জীবনের পথচলার জন্য আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।”
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের ছোঁয়া:
সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিয়ের লাল শাড়ি পরিহিত আরও কিছু প্রাণবন্ত ছবি প্রকাশ করেন দীপ্তি। ছবিগুলোতে নবদম্পতিকে অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও সুখী মুহূর্তে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ছবির ক্যাপশনে দীপ্তির ব্যবহৃত বাক্যটি মূলত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাসের সংলাপের অনুকরণে লেখা। মূল উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন, ‘ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছ! তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব।’ সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে বহুল পরিচিত এই কালজয়ী সংলাপকে নিজের বাস্তব জীবনের আবেগের সঙ্গে মিলিয়ে, বরের শিক্ষকতা পেশার প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘ডাক্তার সাহেব’-এর জায়গায় ‘মাস্টার সাহেব’ ব্যবহার করেছেন দীপ্তি চৌধুরী।
ফেসবুকে এই পোস্ট আসার পর থেকেই বিনোদন অঙ্গনের সহকর্মী, বন্ধু ও ভক্ত-অনুরাগীরা নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত করছেন। কমেন্ট বক্সে বইছে অভিনন্দন আর শুভকামনার বন্যা।