ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গত ১৫ আগস্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক, মোবাইল তল্লাশি এবং একাধিক ব্যক্তিকে প্রহারের ঘটনায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া আ ন ম আয়াস ও তাঁর সহযোগীদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে একজন বেসামরিক ব্যক্তির বিচারকের ভূমিকা নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তির ওপর পাল্টা সহিংসতার হুমকির বিষয়টি নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
ঘটনাপ্রবাহ থেকে জানা যায়, ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২-এর প্রবেশমুখে ব্যারিকেড ও সাঁজোয়া যানসহ পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ছিল। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের রোধ করার নামে আয়াসের নেতৃত্বে একদল যুবক সেখানে অবস্থান নেন। তবে সেখানে একজন রিকশাচালকের মোবাইল ফোন তল্লাশি, এক ব্যক্তির কাছে শিঙাড়া থাকা এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ পরবর্তী সময়ে ওই রিকশাচালককে হেফাজতে নিলেও জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো লিখিত বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো বেসামরিক ব্যক্তি কারও মোবাইল তল্লাশি বা গায়ে হাত তুলতে পারেন না। দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারা (স্বেচ্ছায় আঘাত) ও ৩৪১/৩৪২ ধারা (বেআইনিভাবে আটক) অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডনীয় অপরাধ। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে আয়াসের হাত ভেঙে দেওয়ার জন্য আর্থিক পুরস্কার ঘোষণার বিষয়টিও আইনের চরম লঙ্ঘন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ দমনের পূর্ণ এখতিয়ার রাষ্ট্রের এবং মব জাস্টিস কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক বা আন্দোলনকারী পরিচয় কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার দায়মুক্তি দিতে পারে না।