আধুনিক যুগে নিরাপত্তার সনাতন ধারণা গুণগতভাবেই পরিবর্তিত হয়ে গেছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, এখন কোনো বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিন্দুক পাহারা দেওয়ার চেয়ে তার কম্পিউটারকে হ্যাকারমুক্ত রাখা এবং হাজার মাইলের সীমান্ত পাহারার চেয়েও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক বেশি জরুরি।
আজ বুধবার (১ জুলাই) খিলগাঁওয়ে আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মিডিয়া সেল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘সময়ের স্পন্দনে, আকাঙ্ক্ষা পূরণে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
নিরাপত্তার নতুন বাস্তবতা ও ডিজিটাল লিডারশিপ:
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধ কেবলই সমরাস্ত্রের বিষয় নয়, যোগাযোগ কেবলই মানুষের কণ্ঠস্বর বিনিময় করা নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল চুরির ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে কীভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।’
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনার একটি বড় অংশ হবে আনসার বাহিনীর তৈরি এই ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। অ্যানালগ ও ডিজিটাল পদ্ধতির পার্থক্য বুঝতে পেরে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে ডিজিটাল লিডারশিপ গ্রহণ করার জন্য বাহিনীর নেতৃত্বের প্রতি তিনি সাধুবাদ জানান। মন্ত্রী এ সময় বাহিনীর ৬০ লাখ জনবলকে প্রচলিত ধারণায় আটকে না রেখে সময়োপযোগী ও আধুনিক চিন্তার মাধ্যমে দেশের কাজে লাগানোর এই উদ্ভাবনী প্রয়াসের প্রশংসা করেন।
প্রযুক্তির গতিশীলতা ও পরিবর্তনের তাগিদ:
প্রযুক্তির চলমান পরিবর্তনের ধারাকে ডাইনামিক বা গতিশীল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় জ্ঞান ও মনোজগৎকে স্থিতিশীল রাখার কোনো সুযোগ নেই। প্রতি মুহূর্তেই আমাদের চিন্তার দিক থেকে গতিশীল থাকতে হবে এবং চলমান আপগ্রেডিং সিস্টেমের মধ্যে থাকতে হবে। তা না হলে আজকে যিনি আধুনিক, আগামীকালই তিনি অচল হয়ে যেতে পারেন। ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ প্ল্যাটফর্মটিকে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের জন্য একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথিবৃন্দ:
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এম সাজ্জাদ মাহমুদ। এ সময় বাহিনীর সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।