কুমিল্লার ময়নামতিতে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে অরাজনৈতিক সংগঠন ‘ময়নামতি জাগ্রত বিবেক সংগঠন’। এরই ধারাবাহিকতায় রামপাল গ্রামের এক অসহায় পরিবারের বাড়িতে সোলার সিস্টেম স্থাপন করে দিয়েছে সংগঠনটি।
ময়নামতি সাবের বাজারসংলগ্ন রামপাল গ্রামের প্রয়াত চিকিৎসক শরীফের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে বসবাস করে আসছে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শরীফের মৃত্যুর পর পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে তার পরিবার। বর্তমানে পরিবারের তিন সন্তান মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবারটির বাড়িতে যাতায়াতের জন্য নেই কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা। চারপাশে জলাশয় থাকায় বর্ষা মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। টিউবওয়েল থাকলেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। জীর্ণ হয়ে পড়েছে ব্যবহারের বাথরুমটিও।
দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত ছিল পরিবারটি। বাড়িটি মূল বিদ্যুৎ লাইনের কাছ থেকে দূরে হওয়ায় সংযোগ নিতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ায় ‘ময়নামতি জাগ্রত বিবেক সংগঠন’। সংগঠনের উদ্যোগে সম্প্রতি বাড়িটিতে একটি সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে তিন থেকে চারটি লাইট, এক থেকে দুটি ফ্যান এবং মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার সুবিধা পাওয়া যাবে।
সোলার সিস্টেম স্থাপনের ফলে পরিবারের শিশুদের পড়াশোনার সুযোগও সহজ হয়েছে। এতদিন সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকলেও এখন তারা রাতে আলো জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে পারছে।
সংগঠনটির কার্যক্রমে ছাত্র, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য, সাংবাদিক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহযোগিতা করছেন। পাশাপাশি প্রবাসীরাও সংগঠনের মানবিক কার্যক্রমে আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
‘ময়নামতি জাগ্রত বিবেক সংগঠন’ নিজেদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের মতে, সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।