২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দর থেকে সফলভাবে আকাশে উড়েছিল চার আসনের এইচওয়াই ৪ (HY4) বিমান। জ্বালানি কোষ ও ব্যাটারিচালিত এই উড়োজাহাজকে পরিবেশবান্ধব ও কার্বন নিঃসরণমুক্ত বিমান প্রযুক্তির গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই প্রযুক্তির পেছনে কাজ করা গবেষকদের একজন ছিলেন চট্টগ্রামের মেয়ে দেবযানী ঘোষ। জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টারের নেতৃত্বে এবং ইউনিভার্সিটি অব উলমের গবেষণা দলের অংশ হিসেবে তিনি এই প্রকল্পে পিএইচডি গবেষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
চট্টগ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা দেবযানী ঘোষ অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
পরে শিক্ষকতা ও জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে তিনি নিজের গবেষণার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করেন। আরডব্লিউটিএইচ আচেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্ষমতা প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত হন।
এইচওয়াই ৪ প্রকল্পে দেবযানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎকে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারের জন্য সিলিকন কার্বাইডভিত্তিক পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ব্যবস্থা তৈরি করা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ এবং বিমানের শক্তির প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিয়েও তিনি কাজ করেন।
জ্বালানি কোষ ও ব্যাটারির সমন্বয়ে পরিচালিত এই উড়োজাহাজের সফল উড্ডয়ন ভবিষ্যতের কম-কার্বন ও পরিবেশবান্ধব বিমান তৈরির গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার পথ দেখায়।
আর সেই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় একজন বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে দেবযানী ঘোষের অংশগ্রহণ দেশের তরুণ প্রকৌশলী ও গবেষকদের জন্য নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার।
চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে জার্মানির উচ্চপ্রযুক্তির গবেষণাগারে পৌঁছে পরিবেশবান্ধব বিমান প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদান রাখা দেবযানী ঘোষের পথচলা প্রমাণ করে, মেধা, শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরাও বৈশ্বিক প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।