ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতি পদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারি, হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) বিকেলে ওই ইউনিয়নের সুতালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন এবং সভাস্থলের বেশ কিছু চেয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী ও সাবেক সভাপতি আবুল কালাম মিয়া এবং উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও অপর সভাপতি পদপ্রার্থী মো. বিশু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে বেলা তিনটায় সম্মেলন শুরুর আগেই কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এর একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে স্কুলের কক্ষের ভেতর মূল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মারামারির বিষয়ে সভাপতি পদপ্রার্থী মো. বিশু মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, “সম্মেলন বিদ্যালয়ের কক্ষের ভেতর সুন্দরভাবে হয়েছে। কিন্তু কালাম মিয়া বাইরে থেকে অন্য ইউনিয়নের সমর্থকদের নিয়ে এসেছিলেন। তারা স্থানীয় লোকজনের সাথে দুর্ব্যবহার করায় বাইরে পোলাপান মারামারি করেছে।”
তবে অন্য ইউনিয়ন থেকে লোক আনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আবুল কালাম মিয়া। তিনি দাবি করেন, “তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যারা ঝামেলা করেছে তারা বাজে ছেলে। সম্মেলন সম্পূর্ণ সফলভাবেই শেষ হয়েছে।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সম্মেলন শুরুর আগে দুই সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে সামান্য কথা-কাটাকাটি নিয়ে হাতাহাতি হয়েছিল, যা বড় কোনো বিষয় নয়। পরে শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠান শেষ করা হয়েছে।
আজকের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা।
উল্লেখ্য, হট্টগোলের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সুতালিয়া মাঠে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। তবে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের প্রার্থীদের বক্তব্য শুনে গেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বোয়ালমারীর একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের সব কমিটি একসঙ্গে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।