‘পড়া, লেখা আর বলা’—এই নীতিকে জীবনের মূলমন্ত্র মেনে দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন খুলনার সন্তান অ্যাডভোকেট এম. মাফতুন আহমেদ। পেশায় একজন আইনজীবী হলেও তিনি একাধারে পত্রিকা সম্পাদক, নিবন্ধকার ও গবেষক।
ব্যক্তি জীবনে নির্লোভ, নির্মোহ ও আপোসহীন মনোভাবের জন্য সুপরিচিত এই গুণী ব্যক্তি নিজের নীতি ও আদর্শের কারণে জীবনের বিভিন্ন সময়ে নানা হেনস্তা ও জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবুও সত্য প্রকাশে পিছপা হননি তিনি।
শিক্ষা ও কর্মজীবন:
১৯৬৪ সালের ১৮ আগস্ট খুলনা শহরের দারোগাপাড়ায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন মাফতুন আহমেদ। তাঁর বাবা মরহুম মোহাম্মদ আমজাদ আলী ছিলেন পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন আদর্শবান প্রধান শিক্ষক। শৈশব ও কৈশোর পাইকগাছায় কাটানোর পর ১৯৮১ সালে এসএসসি এবং ১৯৮৩ সালে খুলনা সুন্দরবন আদর্শ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ১৯৮৬ সালে খুলনা বিএল কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৮৭ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
আইন পেশায় আসার লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে খুলনা সিটি ল’ কলেজ থেকে এলএলবি এবং ১৯৯৬ সালে ঢাকা বার কাউন্সিল থেকে সনদ অর্জন করে একই বছরের ২৩ মে খুলনা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চা:
আইন পেশার পাশাপাশি তিন যুগের সাংবাদিকতা ক্যারিয়ারে দেশের চলমান ঘটনাবলী ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে তিনি প্রকাশ করেছেন কয়েক হাজার জনগুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ। তাঁর ক্ষুরধার লেখনি, মেধা ও যুক্তিনির্ভর ভাবনায় এ পর্যন্ত ২০টিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় বিভিন্ন দৈনিকে কলাম লেখার পাশাপাশি বর্তমানে তিনি খুলনা থেকে প্রকাশিত “আজাদ বার্তা ও সত্যের ঝান্ডা” পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
সামাজিক কর্মকাণ্ড ও অবদান:
তিনি প্রাচীনতম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘তমদ্দুন মজলিস’ খুলনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ‘ল’ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’ খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি। এছাড়া পাইকগাছায় বাবার স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর নিজের হাতে গড়া “হেডমাস্টার আমজাদ আলী পাবলিক লাইব্রেরি ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট” এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে।
বর্তমানে আইন পেশা, পত্রিকা সম্পাদনা এবং গবেষণাধর্মী লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী ও সম্পাদক।