পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর দৃঢ় মনোবল থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে যে সফলতা অর্জন করা সম্ভব—তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম দোহা। নতুন প্রজ্ঞাপনে তিনি পুনরায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম দোহা ইতোপূর্বেও তৎকালীন সরকারের সময় ৪ নভেম্বর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ৩০ জুলাই সরকারের জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে তাকে পুনরায় একই পদে বহাল রেখে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম দোহা শ্যামনগর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ এবং শ্যামনগর সরকারি শিশু শিক্ষা নিকেতনের সাবেক সহকারী শিক্ষিকা মরহুমা মমতাজ বেগমের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
তার শিক্ষাজীবন অত্যন্ত গৌরবময়। তিনি ১৯৯৫ সালে নকিপুর এইচসি সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে স্টার মার্কসসহ এসএসসি এবং ১৯৯৭ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলতার সাথে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে ২০০৬ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে সাতক্ষীরা জজ কোর্টে আইনপেশা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৫ সাল থেকে মহামান্য হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করেন।
নিজের এই অনন্য অর্জনের বিষয়ে অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম দোহা জানান, শ্যামনগর উপজেলার প্রথম সন্তান হিসেবে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পেয়েছেন এবং বর্তমানে তিনিই সাতক্ষীরা জেলার একমাত্র ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, “আমার এই আইনি পেশার মাধ্যমে দেশ ও দেশের সাধারণ মানুষের সেবা করে যেতে চাই।”
আইনপেশার পাশাপাশি তিনি সাবেক ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এবং শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবিষ্যতে জনগণের প্রত্যক্ষ সেবা দিতে তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম দোহার এই ধারাবাহিক সাফল্যে তার পরিবার-স্বজন, শিক্ষক, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও শ্যামনগরসহ পুরো সাতক্ষীরা জেলার সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।