ডেঙ্গুর মৌসুমে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের আশপাশে ডাবের পানির চাহিদা বেড়ে যায়। কোথাও কোথাও একটি ডাব ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তবে ডেঙ্গু হলে ডাবের পানি খেতেই হবে, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
ডাবের পানি তরল ও কিছু ইলেক্ট্রোলাইটের উৎস হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। তবে এটিকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা বা রোগ সারানোর ওষুধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) ডেঙ্গুতে পানিশূন্যতা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
খাবার স্যালাইন বা ORS নির্দিষ্ট অনুপাতে গ্লুকোজ ও ইলেক্ট্রোলাইট দিয়ে তৈরি। ফলে পানিশূন্যতা মোকাবিলায় এর নির্ধারিত ফর্মুলা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ডাবের পানিতে ইলেক্ট্রোলাইট থাকলেও এর উপাদানের মাত্রা ORS-এর মতো নির্ধারিত চিকিৎসাগত ফর্মুলা নয়। তাই ডেঙ্গুতে শুধু ডাবের পানির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগীর তরলের প্রয়োজন রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। অতিরিক্ত তরলও কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তরল গ্রহণ করা জরুরি।
জ্বর কমে যাওয়ার পরও ডেঙ্গুর ঝুঁকি থাকতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, রক্তবমি বা পায়খানায় রক্ত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্থিরতা এবং শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
ডাব খেতে পারেন, তবে ডাবকে ডেঙ্গুর ওষুধ মনে করা যাবে না। ডাব না পেলেও ডেঙ্গুর চিকিৎসা অসম্পূর্ণ হয় না। পর্যাপ্ত তরল, প্রয়োজন অনুযায়ী ORS, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গুর ভয়কে কাজে লাগিয়ে অস্বাভাবিক দামে ডাব বিক্রি করা হচ্ছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন।
গুজব নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যেই আস্থা রাখুন।
তথ্যসূত্র: WHO, CDC এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের National Guideline for Clinical Management of Dengue, 5th Edition (2025)।